বাংলা সন চালুর সময়কাল নিয়ে তিনটি মত প্রচলিত আছে। একদল মনে করেন, রাজা শশাঙ্ক প্রথম বাংলা দিনপঞ্জির প্রবর্তন করেন। অপর একদল মনে করেন, মোঘল সম্রাট আকবর বাংলা সন গণনার প্রচলন ঘটান। আরেক দল মনে করেন, হোসেন শাহী আমলের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ নিজ রাজ্যে বাংলা ক্যালেন্ডার প্রথম ব্যবহার করেন। . প্রথম দলের যুক্তি হলো, রাজা শশাঙ্ক ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গাব্দের প্রচলন করেন। ফলে গ্রেগরিয়ান ক্যালন্ডারের চেয়ে বঙ্গাব্দের বর্ষপঞ্জি পিছিয়ে আছে ৫৯৩ / ৫৯৪ বছর। ধারণা করা হয়, ‘সূর্য সিদ্ধান্তের’ ওপর ভিত্তি করেই ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ অথবা ১৪ এপ্রিল প্রণয়ন করা হয় বাংলা বর্ষপঞ্জির। ইংরেজি সালের সঙ্গে বঙ্গাব্দের সময় ব্যবধানের ক্ষেত্রে এই যুক্তি শক্ত বলেই মনে হয়। . বঙ্গাব্দের ব্যাপারে দ্বিতীয় মতটি হলো, এই বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করেন হোসেন শাহী আমলের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ। কৃষি প্রধান ভারতীয় উপমহাদেশে দিনের হিসাব চাঁদের চেয়ে সূর্যের পরিক্রমার ওপর ভিত্তি করে আরবি হিজরি সালের সাথে সমন্বয় করতে তিনি বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তবে এ ব্যাপারে তার পক্ষে শক্ত কোনও যুক্তি তেমন কেউ উপস্থাপন করতে পারেন না। . বিতর্কে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সম্রাট আকবর। বাংলা বর্ষপঞ্জির উন্নয়ন ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে তাঁর অবদানের ব্যাপারে কারও দ্বিমত নেই। বাংলা অঞ্চলে কর আদায় সহজ করার জন্য তিনি এই কাজ করেন। সেসময় বাংলা দিনপঞ্জিকে বলা হত ‘তারিখ-ই-ইলাহী’। চন্দ্র বর্ষ হিসাবে পরিচালিত বর্ষপঞ্জি ভারতে চাষাবাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। অসময়ে কর দিতে গিয়ে বেহাল দশা হতো দরিদ্র কৃষককে। কেউ কেউ মনে করেন, সম্রাট আকবরকে দিনপঞ্জি প্রণয়নের এই পরিকল্পনা দিয়েছিলেন তার মন্ত্রী টোডর মল। . সম্রাটের আদেশে তাঁর রাজসভার আমির ও রাজ জ্যোতিষি পণ্ডিত ফাতুল্লাহ সিরাজি চন্দ্রপঞ্জি ও সূর্যপঞ্জির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে বাংলা দিনপঞ্জি তৈরি করেন। প্রাথমিকভাবে বঙ্গাব্দের মাসগুলোর নাম নেওয়া হয়েছিল সংস্কৃত থেকে। নামকরণ করা হয় ‘ফসলি সন’। পরবর্তীতে এর নাম হয় ‘বঙ্গাব্দ’। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের দিন ৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬ (হিজরি ৯৬৩ সন) থেকে । এর মাধ্যমে পানিপথের যুদ্ধে তিনি সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্যকে পরাজিত করার ঘটনা স্মরণীয় করে রাখতে চান।

বাঙলা বছর নির্ধারন নিয়ে লেখা বিভিন্ন বইয়ের প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ ই মার্চ বা ১১ ই মার্চ থেকে বাংলা সন গননা শুরু হয়।